প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০১২

Email this to a friendইমেইল করুন ইমেইল করুন                      Printable versionপ্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ মাস পর শিশুর লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ মাস পর শিশুর লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ thumbnail

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত:
আগামী ২৯এপ্রিল  কুড়িগ্রামের রাজারহাটে কাজের মেয়ের পিতৃত্বহীন শিশুর লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত  কুড়িগ্রামের বিজ্ঞ জেলা  ম্যাজিষ্ট্রেট। পিতৃত্বের পরিচয়ের জন্য মৃত সন্তানের ডি এন এ পরীার প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করতে এ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের  কুমরগঞ্জ গ্রামের রিক্সা চালক নবীর উদ্দিনের কন্যা নুরনাহার (১৩) অভাবের তাড়নায় একই এলাকার ইউনুছ আলীর বাড়ীতে থালা-বাসন পরিষ্কার সহ অন্যান্য কাজ করতো।

সুন্দরী কিশোরীকে পেয়ে বাড়ীর মালিক ইউনুছ আলীর লম্পট পুত্র নাঈম (১৯) ফুসলিয়ে প্রেমের অভিনয় শুরু করে। একপর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দেহভোগ করে ওই নরপিশাচ। এতে কাজের মেয়ে নুরনাহার অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় ফাঁস হয়ে যায়।

কাজের মেয়েটিকে ওই নরপিশাচ সহ বাড়ীর কর্তা-ব্যক্তিরা গর্ভপাত করার চাপ সৃষ্টি করে। এতে সে রাজী না হলে কিশোরী নুরনাহার ও তার পরিবারের উপর নির্যাতনের খড়গ চালায় প্রভাবশালী ইউনুছ আলী। এলাকায় দফায় দফায় শালিশী বৈঠক করেও ওই লম্পট নাঈম বিয়ে করতে রাজী না হওয়ায় অন্তঃসত্তা কিশোরী রাজারহাট থানায় মামলা দায়ের করতে যায়।

অর্থের অভাবে অন্তঃসত্তা মেয়েটির অভিযোগ থানা আমলে নেয়নি বলে কিশোরীর অভিযোগ। এমতাবস্থায় ৭ মাসের অন্তঃসত্তা নুরনাহার গত বছরের ১৬ আগষ্ট হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার কারনে মেয়েটি দু’দিন পর হাসপাতালে ৭ মাসের একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান প্রসব করে।

কিন্তু ভূমিষ্ট হওয়ার ২ দিন পর সন্তানটি পিতৃত্বের পরিচয় না নিয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে মৃত সন্তানটির পারিবারিক কবর স্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

এ ঘটনায় কিশোরী নুরনাহার সুষ্ঠ বিচারের জন্য কুড়িগ্রাম আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে।
মামলা নং ০৮/১২ইং। এরই প্রেক্ষিতে গত ২২ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত বিজ্ঞ কুড়িগ্রাম জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ হাবিবুর রহমানের এক আদেশে সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ শফিকুল ইসলামকে দীর্ঘ ৯ মাস পর মৃত সন্তানের ডি এন এ পরীক্ষার জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেন।

আগামী ২৯ এপ্রিল  যেকোন সময় শিশুটির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হতে পারে।








সংবাদ শিরোনাম



ফটো এ্যালবাম


ভিডিও