প্রকাশিত: মে ৫, ২০১২

Email this to a friendইমেইল করুন ইমেইল করুন                      Printable versionপ্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কুড়িগ্রামে আয়বৃদ্ধিকুলক কর্মসূচি সৃষ্টিতে হস্তশিল্প তৈরী বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

কুড়িগ্রামে আয়বৃদ্ধিকুলক কর্মসূচি সৃষ্টিতে হস্তশিল্প তৈরী বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা thumbnail

স্টাফ রিপোর্টার:

পারিবারিকভাবে আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে হস্তশিল্প তৈরী বিষয়ক দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শনিবার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাধবরাম গ্রামের আমির হোসেনের বাড়ীতে এবং অপর আরেকটি গ্রুপ পরমালী পশ্চিম গ্রামের আফতার হোসেনের বাড়ীতে শুরু হয়েছে।

পাঁচ দিন ব্যাপি এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সাইদুর রহমান।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৌহার্দ্য-২ কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক সেখ হুমায়ুন কবির, পিএম রেজাউল ইসলাম, কমলা রানী পাল, আহসান হাবীব সজিব প্রমূখ। এই প্রশিক্ষণের আওতায় ঘোগাদহ, ভোগডাঙ্গা, মোগলবাসা ও কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন থেকে পর্যায়ক্রমে দেড়’শ জন এই প্রশিক্ষণ সুবিধা পাবে।

বাংলাদেশ সরকার ও ইউএসএইড এর অর্থায়নে কেয়ার বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় ও স্থানীয় এনজিও সলিডারিটি’র আয়োজনে ‘এনলিভেন-ঢাকা’ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করছে।

পরমালী দিগলহাইল্যা গ্রামের ফরিদা (২৬), ছকিলা (৩১), আমিনা (২৯) জানান, এ ধরণের হস্তশিল্পের কাজ তারা আগে কখনো করেননি। তবে বাড়ীতে বসে নিজেদের মতো করে বিভিন্ন সেলাই-সুতোর কাজ করতেন।

এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা কারিগরি বিষয়ের পাশাপাশি মেটেরিয়াল সহায়তা পাচ্ছে। ফলে সহজে এসব কাজ বাড়ীতে বসেই করতে পারবেন।

ঘোগাদহ ইউনিয়নের ভেলারভিটা গ্রামের ১ম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী সঞ্জিনা (৩০), সাজিনা (২৮), নূরভানু (৩৫) জানান, এখন এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা শো-পিচ ও পুতুল তৈরীর ৪/৫ ধরণের কাজ করতে শিখেছে। এখন তারা ফ্রুট বাস্কেট, ফ্লোয়ার বাস্কেট, বর ও বধূর হস্তশিল্পের কাজ করতে পারছে।

শাহিদা জানালো সে কলা, আনারস, কমলা, আঙুর, স্টবেরী, পেঁপে ও নানান সবজী দিয়ে ৬টি ফ্রুট বাস্কেট তৈরী করেছে। যা দেখতে সুন্দর হয়েছে। এগুলোর জন্য মার্কেট তৈরী করতে পারলে তারা কাজের ফাঁকে স্বামীদেরকে আয়-রোজগারে সহায়তা করতে পারবে।

এনলিভেন এর কারিগরি সমন্বয়কারী ওয়াজেদ রহমান শিশির জানান, কুড়িগ্রামসহ স্থানীয় হাট-বাজার, শহরের বিলাসী দোকান ও মেলায় বিক্রয়ের কথা মাথায় রেখে সৌহার্দ্য-২ কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্তদের নিয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি ব্যাচে ২৫ জন করে সদস্যকে ৫দিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এসব কাজে উপকরণ খরচ অনেক কম।

এসব হস্তশিল্প কাজের জন্য এরারুট বার্লি, রঙ (ফেব্রিকস), আইকা ও বাঁশ দিয়ে মন্ড তৈরী করে উপকরণ তৈরী হয়।

এছাড়াও পরিত্যক্ত জিনিসপত্র, কাগজ, পাট, গুণা (তার) লাগে। একটি ফ্রুট বাস্কেট ৩০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। একটি বর-বধূ ৬০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে।

সূত্র জানায়, সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে সলিডারিটি সৌহার্দ্য-২ কর্মসূচির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব কার্যক্রমে ৪৯টি গ্রামের ১৬ হাজার ৮ শত জন পেশাজীবী লোক জড়িত রয়েছে। প্রায় হারাতে বসা এসব পেশার হস্তশিল্পীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে এই প্রশিক্ষণের।

এরফলে এসব পরিবারের লোকজন স্বাভাবিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়লে পারিবারিকভাবে আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।








সংবাদ শিরোনাম



ফটো এ্যালবাম


ভিডিও